সহবাসের পর মেয়েদের তলপেটে ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

প্রিয় পাঠক আপনি কি সহবাসের পর মেয়েদের তলপেট ব্যথার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে এ আর্টিকেলটি শুধু আপনার জন্যেই। আমরা আজকে জানাতে চলেছি সহবাসের পর মেয়েদের তলপেট কেন ব্যথা করে এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে।




ভূমিকা

আমরা প্রায়সমই সহবাসের সুখের কথা বলি। কিন্তু সহবাসের পর ব্যথার অনুভবের কথা লজ্জায় বলতে চাই না। ব্যথা কেন হয় তারও কারণ জানেনা অনেকেই। আসুন জেনে নেই কোন কোন কারণে সহবাসের পর তলপেটে ব্যথার অনুভব হয়। আর তার প্রতিকার কি।

মাসিকের সময় সহবাস

পিরিয়ডের সময় সহবাস করলে সহবাসের পর পেট মোচড় দিতে পারে। ডক্টর খলিল বলেন, "কিছু নারী মাসিক চক্রের বিভিন্ন পয়েন্টে বেশি স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। এ সময় তাদের স্পর্শকাতর স্থানে পেনিসের অতিরিক্ত খোঁচা বা ধাক্কা বা চাপে অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে।" আপনার পিরিয়ডের সময় সহবাস করলে এবং এরপর পেটে ব্যথা অনুভূত হলে এর সঙ্গে মাসিক চক্রের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা বেশি।

মাংসপেশির সংকোচন

অর্গাজমের সময় পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশি(যেসব মাংসপেশি পেলভিক অর্গানকে সাপোর্ট দেয়, যেমন-জরায়ু, মূত্রথলি ও বৃহদান্ত্রের শেষাংশ) প্রথমে সংকুচিত হয় ও তারপর শিথিল হয়। মাংসপেশীর এই শিথিলতা হচ্ছে অর্গাজমের সুখময় অনুভূতির অংশ, বলেন ডা. স্ট্রেইচার। কিন্তু অন্যান্য মাংসপেশীর মতো এই অংশও সংকুচিত হয়ে পুরোপুরি সিথির নাও হতে পারে, যা সহবাসের পর পেট মোচড় দেয়ার কারণ হতে পারে। জরায়ুও সংকুচিত হতে পারে যদি এতে ঘন ঘন পেনিসের স্পর্শ লাগে, বলেন মাউন্ট সিনাই হেলথ সিস্টেমের সেক্সচুয়াল হেলথ এর পরিচালক সুসান এস. খলিল। তিনি আরো বলেন," প্রায়ক্ষেত্রে সেক্স পজিশনের কারণে এমনটা হতে পারে, কিছু পজিশনে যেমন(ডগি স্টাইল,অথবা পুরুষের উপর নারী) পেনিস স্বাভাবিকের চেয়ে গভীরে প্রবেশ করে এবং জরায়কে আঘাত করে। এতে অস্বস্তিকর অনুভূতি হয় এবং মাংসপেশী সংকুচিত হয়ে পড়ে।

নানাবিধ চিন্তা

সেক্সচুয়াল পেন-এর অন্যতম প্রধান কারণ লুব্রিকেশনের অভাব। এমনিতে যৌন মিলনের ইচ্ছা জাগলে নারীদের গোপনাঙ্গ লুব্রিকেট বা পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। কিন্তু ধরা যাক কোনো নারী মিলনের সময় অন্য কিছু ভাবছেন, সেক্ষেত্রে তার বিশেষ অঙ্গে পিচ্ছিলতার অভাব দেখা দিতে পারে। ডাক্তাররা বলেছেন, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে সকালে উঠে কত বাসন মাজতে হবে বা কাজের মাসি আসবে কিনা এইসব হাবিজাবি কথা ভাববেন না একদম। আর যদি এমনটাই করেন,তাহলে মিলনের সময় ওয়াটার বেসড লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। তবে 'ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস' বা যৌনিতে সুক্ষভাবে কিন্তু একটি জটিল অসুখ।নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এমডি লরি স্ট্রেচার বলেছেন, খুব কম সংখ্যক হলেও কিছু নারী এমন অস্বাভাবিকত্ব নিয়ে জন্মান।

অন্ত্রের সমস্যা

ইরিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম (আই বি এস) মতো আন্ত্রিক সমস্যাও সহবাসের পর পেট মোচড় বা ব্যথার কারণ হতে পারে বলেন ডা. স্ট্রেচার। এটা বেশি কমন, কারণ দীর্ঘস্থায়ী আন্ত্রিক সমস্যা পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশির কার্যক্রম প্রভাবিত করতে পারে, যেমন-মাংসপেশি সংকোচনের পর পুরোপুরি শিথিল না হওয়া। কিছু নারীর ক্ষেত্রে তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সাধারণ সমস্যাও সহবাসের সময় মাংসপেশিকে সংকুচিত করতে পারে, যার ফলে পরবর্তীতে পেট ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করালে এই সমস্যার সমাধান হবে।

এন্ডোমেট্রিয়সিস

প্রায়সময় সহবাসের পর ব্যথা হলে এটি মারাত্মক মেডিকেল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যাকে অবহেলা করা যাবে না। এন্ডোমেট্রিয়সিস হচ্ছে এমন একটি সমস্যা, যেখানে জরায়ুর ভেতরে অনুরূপ টিস্যু পেলভিকের অন্যান্য স্থানে বিকশিত হয়। কখনো কখনো এটি পেলভিস বা ডিম্বাশয়ের স্নায়ু কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে এবং নাড়াচাড়া করলে ব্যথা লাগে। কিছু নারীর ক্ষেত্রে এ ব্যথা ভোতা প্রকৃতির, আবার কারো কারো তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। পেলভিক এরিয়ার যে কোন স্থানে এন্ডোমেট্রিয়সিস হতে পারে, কিন্তু এটি প্রধানত তলপেটে হয়ে থাকে। এমন কি কিছু নারীর কোলন বা মূত্রথলিতেও এ ধরনের টিস্যু বিকশিত হতে পারে। এছাড়া আডিনোমায়সিস (যেখানে জরায়ুর মাসকুলার ওয়াল বা পেসিপ্রাচীরে এন্ডোমেটরিয়াল টিস্যুর বিকাশ হয়) ও কিছু পেলভিক ইনফেকশনের কারণেও সহবাস পরবর্তী পেট ব্যাথা হতে পারে।

ইউটেরাইন ফাইব্রোয়েড ও অভারিয়ান সিস্ট

জরায়ুতে ক্যান্সার মুক্ত টিউমার বা ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড ও ডিম্বাশয়ে তরলপূর্ণ হলে বা অভারিয়ান সিস্ট থাকলেও সহবাস পরবর্তী পেট ব্যাথা হতে পারে। ফাইব্রোয়েড হচ্ছে জরায়ুর এমন নির্দোষ বৃদ্ধি যা বেশ কমন ও প্রায়শ উপসর্গবিহীন থেকে যায়। অনেক নারী জানেনই না যে তাদের ফাইব্রোয়েড রয়েছে। যদি এই নির্দোষ টিউমার উপস্বর্গ প্রকাশ করে তাহলে আপনার পেলভিকে চাপ বা ব্যথার অনুভব করবেন বা কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে, উভয়েই সহবাসের পর পেট মোচড়ানোর কারণ হতে পারে। ওভারিয়ান সিস্ট হচ্ছে ডিম্বাশয়ের পৃষ্ঠে বিকশিত তরলভর্তি থলে। ফাইব্রোয়েড এর মত সিস্টও বেশ কমন এবং প্রাইশ উপসর্গ বা সমস্যা সৃষ্টি করে না। কিন্তু বড় সিস্ট পেলভিকে ব্যথা ও পেটে ভারী অনুভূতি দিতে পারে।

পেলভিক ফ্লোর ডিসফাংশন

সহবাসের সময় ও পরে ব্যথা অনুভব করেন এমন ৯০ শতাংশ নারীর এই সমস্যার জন্য দায়ী হচ্ছে পেলভিক ফ্লোর ডিসফাংশন, পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশির সঠিকভাবে টাইট ও রিল্যাক্স হতে না পারার অক্ষমতা পেলভিক ফ্লোর ডিসফাংশনের অন্তর্গত। অস্বস্তিকর বা যন্ত্রণাময় সহবাসের ক্ষেত্রে আপনাকে যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রাখতে ভ্যাজাইনার নিজের ও এর আশেপাশের মাংসপেশী প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে টাইট হয়ে পড়ে। সময় পরিক্রমায় এসব মাংসপেশী টাইট থাকলে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং যতটুকু রিল্যাক্স হওয়া উচিত তা হয় না। এককথায়, তারা প্রতিরক্ষা মোড এ থাকে। এ কারণে সহবাস জনিত অস্বস্তি , এড়াতে এসব মাংসপেসিকে পুনরায় এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে যে ভ্যাজাইনাতে পেনিসের প্রবেশে ব্যথা নয়, সুখের অনুভূতি হবে।

মেয়েদের তলপেটে ব্যথা কমানোর উপায়

  1. তলপেটের ব্যথা কমাতে প্রকৃতির সমাধান হিসেবে চায়ের সঙ্গে পুদিনা পাতা খেতে পারেন পেট ব্যথা ও বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে পুদিনা পাতা।
  2. ব্যথা কমাতে আদা চা খেতে পারেন। আদা চা অত্যন্ত উপকারী।
  3. কলাই প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তলপেটের ব্যথা কমাতে পাকা কলা খেতে পারেন
  4. এক কাপ পানিতে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার ও এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে উপকার পাবেন। এটি পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  5. ভারী বা মসলা জাতীয় খাবার না খেয়ে নরম করে ভাত খেতে পারেন।
  6. তলপেটের ব্যথা কমাতে গরম পানির ব্যাগ দিয়ে পেটে ছ্যাক দিতে পারেন। এতে আরমবোধ করবেন।
  7. বেদানা ফলের রস খেতে পারেন।
  8. কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন।

উপসংহার

সহবাসের সময় সবসময় চিন্তা রাখবেন আপনার স্ত্রীর মাসিক চলছে কিনা মাসিক চলাকালীন সময়ে সহবাস করলে এই সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। কিসমিস, আপেল, পুদিনা পাতা, আদা চা মেয়েদের সহবাসের পর তলপেটের ব্যথার কারণ অনেকটাই কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url